ধরুন, আপনার রোলটা স্ট্রাইকারের। ৯০ মিনিটের খেলায় এমন একটা বল আপনি পেতেই পারেন, খানিকক্ষণ হাওয়ায় ভেসে ভেসে বলটা পড়বে জোন-১৪-এ। পেছন থেকে সঙ্গে সঙ্গে প্রেস করছে প্রতিপক্ষ, বল নামিয়ে কন্ট্রোলে নেওয়ার সময় নেই। আপনি তাই হাফ ভলিতেই শট করবেন। টিভিতে দেখলে দর্শকের মনে হবে, টপ কর্নার ফিনিশটা বোধ হয় হয়েই গেছে।
আপনার ফিনিশিংয়ে আস্থা পাওয়ার কারণও তো আছে! আগের ম্যাচেই বাইসাইকেল কিকে গোল করেছেন আপনি, এই মাঠেই। যে গোলগুলো এতদিন রাত জেগে জেগে ইউরোপীয় ফুটবল দেখার কালেই কেবল চোখে পড়েছে।
কিংবা, যদি আপনার ভূমিকা হয় মিডফিল্ডারের? আপনার দলের মান যা, তাতে আপনাকে ডিফেন্সিভ মিডের রোলটাতেই খেলতে হবে। প্রতিপক্ষ যেন ফরোয়ার্ডদের কাছে বল পাঠাতে না পারে, সেই সাপ্লাই লাইনটা বন্ধ করতে হবে। কখনো জোনাল মার্কিং করে, কখনো প্রেস করে প্রতিপক্ষকে ব্যাকপাসে বাধ্য করে, কখনো ওয়ান ভার্সেস ওয়ানে, আবার কখনো পেছন থেকে এসে বল কেড়ে নিয়ে... আপনি অপোনেন্টকে আটকে রাখবেন সবভাবেই। ওহ, বিল্ড-আপের সময় দুই সেন্টারব্যাকের মাঝের জায়গাটা নিয়ে খেলা স্ট্রেচ করার কাজটাও আপনিই করছেন।
আবার ধরুন, আপনি সেন্টারব্যাকই। লেফট ব্যাককে ড্রিবল করে পেরিয়ে গেছেন অপোনেন্টের রাইট উইঙ্গার। তিনি যদি ক্রস বাড়াতে চান, তাহলে কে আটকাবে ক্রসটা, আপনি ছাড়া?
কিংবা, যদি গোলরক্ষকই গুবলেট পাকিয়ে ফেলে বিল্ড-আপ করতে গিয়ে, গোলবার ফাঁকা রেখে তিনি পড়ে রন এক প্রান্তে। আপনাকেই তো তখন দৌড়ে এসে দাঁড়াতে হবে গোলের সামনে। প্রতিপক্ষের জোরালো শটটাও হেড করে বাইরে পাঠাতে হবে দলকে জেতাতে চাইলে।
এতগুলো ভূমিকা, পালন করার জন্যেই তো মাঠে ১১ জন আছেন।
কিন্তু, আপনি যেদিন বাংলাদেশের হামজা চৌধুরী, সেদিন আপনি সব কিছু করবেন। একা, এক দিনে, একাই।
দীর্ঘ একটা জল্পনা-কল্পনার পরে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন বলেছিলেন।
দিন যত যাচ্ছে, মনে হচ্ছে, তিনি মিথ্যে বলেছিলেন।
হামজা চৌধুরী তো একবারও বলেননি, তিনিই বাংলাদেশ হয়ে যাবেন!
#hamzachoudhury

Comments
Post a Comment